কয়লা-বালি-ত্রাণ অভিযোগ উঠলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা! নেতাদের হুঁশিয়ারি মমতার

কয়লা-বালি-ত্রাণ অভিযোগ উঠলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা! নেতাদের হুঁশিয়ারি মমতার
কয়লা-বালি-ত্রাণ অভিযোগ উঠলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা! নেতাদের হুঁশিয়ারি মমতার

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কয়লা-বালি-ত্রাণ যে কোন ক্ষত্রে অভিযোগ উঠলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মমতার।গত ১০ বছরের শাসন কালের পর জিতে ফিরলেও দলের গায়ে লেগছে একাধিক দাগ। তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরে সেসব দাগ মুছতে তৎপর মমতা। কোন ভাবেই আর মা-মাটি-মানুষের দলের গায়ে লাগতে দিতে চাইছেন না কোন দাগ। আজকের বৈঠকের আগে থেকেই একাধিক বিষয়ে পদক্ষেপের ক্ষেত্রেই মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়েছিলেন এসব অভিযোগ আর সহ্য করবেন না তিনি।

আরও পড়ুনঃ নড়ে-চড়ে বসলেন এক ফোনেই, কলকাতা পুরসভা কর্মীদের স্বার্থে বড় সিদ্ধান্ত ফিরহাদের

আজ বৈঠক থেকে সরাসরি বার্তা দিলেন কয়লা-বালি পাচার থেকে ত্রাণ বিলি, কোন খহেত্রেই যদি অভিযগ আসে ব্যবস্থা নেবেন তৎক্ষণাৎ। নেতা মন্ত্রীদের উদেশ্যে এক গুচ্ছ কড়া পদক্ষেপও জারি করেছেন। গতবছরের আমফানের সময় শাসক দলের গায়ে দাগ লেগেছিল ত্রান চুরি-চাল চুরি-ত্রিপল চুরির। গোটা ২১ এর নির্বাচন কালে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের বেকারত্বের পাশাপাশি এই একটাই টপিক ছিল, ‘আমফানের চাল-ত্রিপল চুরি’। এবারে ইয়াসের সময় সেই ভুল আর করেননি মমতা। নেতা নেত্রীদের ত্রাণের দায়িত্ব না দিয়ে কাজ ভাগ করেছেন সরাসরি প্রশাসনিক দপ্তরে।

আজকের বৈঠক থেকেও ত্রাণের বিষয়ে আরও কড়া বার্তা দিয়েছন। স্পষ্ট জানিয়েছেন ত্রাণ বিলির বিষয়ে কোন রকম কোন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ বরদাস্ত করেবন না তিনি। সঙ্গে জানিয়েছেন কয়লা-বালি পাচারের সঙ্গে কোন নেতা মন্ত্রীর নাম জড়ালে বড়ো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার গায়ে দাগ লাগলেও বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়েছেন।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে ক্ষমতায় ফিরে গোটা দলের শুদ্ধিকরন করছেন দলনেত্রী। একগুচ্ছ নিয়মের মধ্যে দলের মন্ত্রীদের গাড়িতে লালবাতি ব্যবহারে ‘না’ করেছেন  দিদি,  সঙ্গে একপ্রকার প্রটোকল জারি করলেন নেতা মন্ত্রীদের জন্য।  মিটিং শেষের সারাংশ একাধিক পদে রদবদলের পাশাপাশি নেতা মন্ত্রীদের জন্য একগুচ্ছ প্রোটকল জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি দায়িত্বে থাকা নেতামন্ত্রীরা চাইলেই সোশগ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি বলতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।

লকডাউনের জেরে যাতায়াতে অসুবিধে এবং ইয়াস মোকাবিলার জন্য কয়েকটি জেলা ছাড়া বাকি সকল জেলার নেতা মন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষ করেই ভার্চুয়াল বৈঠকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন একের পর এক।  প্রথমেই ঘোষণা করেছেন দলে এক ব্যাক্তি এক পদ নীতির কথা। জানিয়েছেন যারা মন্ত্রী হয়েছেন তারা জেলার সভাপতি হতে পারবেন না।

কয়লা-বালি-ত্রাণ অভিযোগ উঠলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা! তাছাড়া দলের খোল নলচে পালটে আসনের রদবদল করেছেন একাধিক জায়গায়। যুব সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে অভিষেককে বানিয়েছেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, অভিষেকের জায়গায় এনেছেন সায়নীকে। এছাড়াও আরও একাধিক ক্ষেত্রেও বদল ঘটেছে। তার পাশাপাশি দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে নেতা মন্ত্রীদের একগুচ্ছ করা নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here