রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণ ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ পাঠানো হয়েছে জেলাশাসকদের কাছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে নবান্ন।
গত ২৩ মে রাইটার্স বিল্ডিংসের ফরেনার্স ব্রাঞ্চ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন বা যাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদের প্রত্যর্পণের আগে নির্দিষ্ট ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ রাখা হবে।


প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই হোল্ডিং সেন্টারগুলি মূলত অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ধৃত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের পাশাপাশি সাজা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে, তাঁদেরও সেখানে রাখা হতে পারে।
সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের গত বছরের একটি নির্দেশকে ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যর্পণ বা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জেলাশাসকদের অবিলম্বে উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ভবিষ্যতে বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া ও নজরদারি আরও কঠোর করতেই এই উদ্যোগ।


এই নির্দেশিকার কপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের কাছেও। তালিকায় রয়েছেন ডিজি ও আইজিপি, সমস্ত পুলিশ কমিশনার, কলকাতার এফআরআরও এবং প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার। ফলে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে প্রশাসন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। সেই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনে বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ, নজরদারি এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতেই এবার জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির পথে হাঁটল রাজ্য সরকার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



