মরার আগে মরেন নি, পুষ্পবৃষ্টিতে স্নান করে বাড়ি ফিরলেন অশোক!

মরার আগে মরেন নি, পুষ্পবৃষ্টিতে স্নান করে বাড়ি ফিরলেন অশোক!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মরার আগে মরেন নি তিনি, পুষ্পবৃষ্টিতে স্নান করে বাড়ি ফিরলেন অশোক ভট্টাচার্য। টানা ২১ দিনের লড়াইয়ের পর মারণ ভাইরাস কে ঘায়েল করে বাড়ি ফিরে এলেন শিলিগুড়ির সিপিআইএম বিধায়ক তথা পুরনিগমের প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য। করোনাজয়ী অশোকের বাড়ি ফেরা নিয়ে জনতার উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। তাঁকে ফুলের মালা আর পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নিলেন সহকর্মী সহ শিলিগুড়ির বাসিন্দা রা।

বৃহস্পতিবার সকালে অশোকবাবুর সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ জানা যায়, অশোকবাবুর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য এ দিন অশোক বাবু সোশ্যাল মিডিয়াতে মুখ্যমন্ত্রী, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

গত ১৬ জুন থেকে মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা শিলিগুড়ি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য। পরপর দু’বার covid19 এর সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর গতকাল তাঁর সোয়াব পরীক্ষা করা হয়। সিপিআইএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার জানিয়েছেন, অশোকবাবুর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

অন্যদিকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন করোনা মুক্ত অশোক বাবু, এক বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, “আমার করোনা আক্রমণের প্রায় ২০ দিন হলো। কয়েকদিন আগে আমার পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এখন সুস্থ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছি। করোনা নিয়ে অনেক রকম প্রচারের কথা শুনে আসছি। আমার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা হল, এই ক’দিনে। প্রথম অভিজ্ঞতা হল, করোনা হলেই মৃত্যু নয়। মরার আগেই মরবো কেন? লড়াই করার মানসিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যের ক্ষেত্রে রোগ দ্রুত নির্ণয় করে চিকিৎসা হচ্ছে না, যদি তা হত তাহলে করোনা মোকাবিলা করতে অনেক সুবিধা হত বলে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হয়েছিল। অনেক করোনা রোগী সেভাবে কোনও শারীরিক অসুবিধে বুঝতেই পারেন না। অনেক ডাক্তার এই সমস্ত রোগীদের এড়িয়ে যান। তখন তাঁকে একের পর এক ডাক্তারের কাছে ছুটে বেড়াতে হয়। এই সময়ে রোগীর যা ক্ষতি হওয়ার, হয়ে যায়। বিশেষ করে তাঁর রক্তে অক্সিজেন কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আরেকটি বিষয় মনে হয়েছে। তা হল, একটু আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা ও চিকিৎসাকর্মীদের সাহসিকতার সঙ্গে সেবা করা। আমি দেখেছি এঁদের ডেডিকেশন ও সাহস। এঁদের জন্যেই আমার মতো অনেকে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। কিন্তু ওঁরাই বলছিল, সমাজে যে সম্মান বা মর্যাদা পাওয়া উচিত, তা কিন্তু পায় না। তাঁদের সবসময় থাকতে হয় আতঙ্কের মধ্যে। এখানেই পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি এগিয়ে চলা রাজ্যের লজ্জা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x