TET Scam: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বড় ধাক্কা, পদ থেকে সরানো হচ্ছে পার্থর অনুগামীদের।

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বড় ধাক্কা, পদ থেকে সরানো হচ্ছে পার্থর অনুগামীদের।
Teacher Recruitment Scam: Partha Chatterjee News Update

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরগরম রাজ্য। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চলছে সিবিআই তদন্ত। ২০১৪ সালের পর প্রাথমিকে শিক্ষকপদে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। সব থেকে তাৎপর্যপূর্ন বিষয় হল যাঁদের সরানো হচ্ছে তাঁরা দলীয় স্তরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুনঃ চাকরি যাবে ১৭ হাজার দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকের, মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিস্ফোরক বিকাশ।

আদালতের নির্দেশে আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা কাউন্সিলের সভাপতি মাণিক ভট্টাচার্যকে। ইতিমধ্যেই নিয়োগে বেনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে ম্যারাথন জেরার মুখে পড়তে হয়েছে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোয়াপাধ্যায়কে। তাঁর সময়ে তৈরী হওয়া কমিটির অঙ্গুলিহেলনেই বেলাইনে নিয়োগ হয়েছে সন্দেহে এফআইআর করে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।

সব মিলিয়ে খুব সহজে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে ছাড় পাবেন পার্থ বাবু এমনটা বলতে পারছে না ওয়াকিবহাল মহল। ২০১৪ সালে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই মতো টেটের পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর। ফলপ্রকাশ হয় ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে। ওই বছরই প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। পরের বছর অর্থাৎ, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকা ঘিরেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই চাকরি চলে গেছে ২৬৯ জনের।

partha

সূত্রের খবর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিড়ম্বনা কমাতেই তাঁর ঘনিষ্ঠদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর তাঁদের যায়গায় বসানো হচ্ছে প্রশাসনিক কর্তাদের। সূত্রের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের যেকোন মুহুর্তে পড়তে হবে সিবিআই জেরার মুখে। তাই সেই পদ থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন? সূত্রের দাবি, ২০১৪ সালের টেটে নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য শুধু মার্কশিট, অ্যাডমিট কার্ড এসব ভেরিফাই করা হয়েছিল। অন্য কিছু নয়।

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বড় ধাক্কা, পদ থেকে সরানো হচ্ছে পার্থর অনুগামীদের।

WB TET 647 2 0

এই একই কথা শোনা গিয়েছে অপসারিত চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হিতেন বর্মনের মুখ থেকে। তিনি বলেছিলেন, টেট কোয়ালিফায়েড সবাই অ্যাডমিট কার্ড এবং তাদের যোগ্যতা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেননি। এমনিক জয়েনিং রিপোর্টও নেই। তাই জেলা দপ্তরে ২০১৪ সালে টেট উত্তীর্ণ কতজনকে জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেই হিসাবও নেই।

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বড় ধাক্কা, পদ থেকে সরানো হচ্ছে পার্থর অনুগামীদের
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে বড় ধাক্কা, পদ থেকে সরানো হচ্ছে পার্থর অনুগামীদের

জানা গিয়েছে, এখন পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর দিনাজপুর এবং কোচবিহার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পদ থেকে। তাঁদের স্থানে বসানো হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের জেলা আধিকারিকদের। যারা অপসারিত হয়েছেন তাঁরা হলেন, কোচবিহার – হিতেন বর্মণ। পশ্চিম মেদিনীপুর – কৃষ্ণেন্দু অধিকারী এবং উত্তর দিনাজপুরের জাওয়াদ আলম। এরা সকলেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।