ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বড় ধাক্কা। টিকার অপেক্ষা করবেন না, বিশ্বকে জানাল WHO

ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বড় ধাক্কা। টিকার অপেক্ষা করবেন না, বিশ্বকে জানাল WHO

নজরবন্দি ব্যুরো: ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বড় ধাক্কা। করোনা আক্রমণে জেরবার গোটা দুনিয়া। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। সব মানুষ এখন ভ্যাকসিনের অপেক্ষায়। বিভিন্ন কোম্পানি ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসনে র কোভিড ভ্যাকসিনও। কিন্তু ভ্যাকসিন তৈরির লড়াইয়ে বড় ধাক্কা। বিশ্বকে হতাশ করল জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিন।

আরও পড়ুনঃ পুজোর আগে চলবে লোকাল ট্রেন? প্রস্তুত রেল মন্ত্রক।

করোনার টিকা তৈরির লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়েছিল জনসন অ্যান্ড জনসন। প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে সাফল্য পাওয়ার পর তৃতীয় তথা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের পথে পা বাড়িয়েছিল এই সংস্থা। সেই রায়ালেই তাদের ধাক্কা খেতে হল। টিকা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পরলেন এক স্বেচ্ছাসেবক। সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “আমরা অস্থায়ী ভাবে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বন্ধ রাখতে বাধ্য হলাম। এবং ফেজ ৩ এনসেম্বেল ট্রায়ালও বন্ধ করা হচ্ছে। কারণ ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পরেছেন।”

রাশিয়া প্রথম ভ্যাকসিন উত্‍পাদন শুরু করে দিলেও তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। এদিকে সবচেয়ে নিরাপদ যাকে ভাবা হচ্ছিলো সেই অক্সফোর্ড এর ভ্যাকসিন এর তৃতীয় ট্রায়াল ধাক্কা খায় এক স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হওয়ার পর। পরে যদিও সেই ভ্যাকসিনের শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল আবার শুরু হয়েছে। রাশিয়া এবং অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি টিকার দৌড়ে ছিল জনসন অ্যান্ড জনসনে র কোভিড ভ্যাকসিনও। ট্রায়ালের প্রাথমিক রেজাল্টে বলা হয়েছিল, এডি২৬.কোভ২.এস নামের এই ভ্যাকসিনের দুটি আলাদা ডোজ দেওয়া হয়েছে। তাতে ফল ভাল মিলেছে।

গত জুলাই-য়ে প্রথম হনুমানের দেহে এই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়। তাতে সাফল্যও পান গবেষকেরা। গবেষণায় দেখা যায় করোনা মহামারির সাথে লড়তে সক্ষম এই প্রতিষেধক। এই ভ্যাকসিন প্রয়োগে শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিরধক্ষমতা তৈরি হতে দেখা যায়। এরপরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় ১ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের দেহে। সংস্থার তরফে জানানো হয়, যাদের দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশের শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এবং এই অ্যান্টিবডি ২৯ দিন পররযন্ত সক্রিয় থাকছে। অর্থাৎ ২৯ দিন পর্যন্ত প্যাথোজেন থেকে কোষরক্ষা করতে পারবে এডি২৬কোভ২এস নামক প্রতিষেধকটি।

ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বড় ধাক্কা। কিন্তু লার্জ স্কেল বা তৃতীয় পর্যায়ে ট্রায়াল চালানোর সময় ধাক্কা খেল এই ভ্যাকসিনও। ৬০ হাজার জনের উপর ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করেছিল জনসন অ্যান্ড জনসন। কিন্তু তাদের মধ্যেই টিকা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন একজন স্বেচ্ছাসেবক! ফলে আপাতত বন্ধ হয়ে গেল ট্রায়াল।

অন্যদিকে, ভ্যাকসিন আসার দোদ্যুল্যমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর টেড্রোজ আধানম ঘেব্রিয়েসুস জানিয়ে দিলেন, কবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আসবে তার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘‘যখনই কোনও ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকরী বলে প্রমাণিত হবে, তখনই তা সমস্ত দেশে সমান ভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু আমরা কেবল ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতে পারি না। হাতে যা আছে তাই দিয়েই প্রাণ বাঁচাতে হবে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x