‘ইয়াসে’ ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলার ১ কোটি মানুষ! ভেঙেছে ৩ লক্ষেরও বেশি বাড়ি,১২৪ টি বাঁধ

'ইয়াসে' ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলার ১ কোটি মানুষ! ৩ লক্ষেরও বেশি বাড়ি;ভেঙেছে ১২৪ টি বাঁধ
'ইয়াসে' ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলার ১ কোটি মানুষ! ৩ লক্ষেরও বেশি বাড়ি;ভেঙেছে ১২৪ টি বাঁধ

নজরবন্দি ব্যুরো: করোনার মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ইয়াসের তান্ডবে লন্ডভন্ড সেচ, কৃষি ও মৎস্যক্ষেত্র। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর।ঝড় শেষে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্নে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে একটা প্রাথমিক খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ দেশে ফের বাড়ল সংক্রমণ, তবে সুস্থতার হার ৯০ শতাংশ

তিনি বলেন, ‘ বাঁধ ভেঙেছে ১২৪টি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ লক্ষেরও বেশি বাড়ি । দুর্যোগে আক্রান্ত প্রায় ১ কোটি মানুষ ।ভরা কোটালে ঘূর্ণিঝড় বলেই বেশি ক্ষতি। জল ঢুকে গেছে অনেক গ্রামে ।’ এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী যোগ জানান যে,রিলিফ সেন্টারে আনা এক ব্যক্তি মাছের জাল ফেলতে গিয়ে,ঝড়ের কবলে পড়ে এবং সেখানেই দুর্ঘটনাবশত জলে ডুবে মারা যান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ লক্ষ ত্রিপল, রিলিফ – ১০ কোটি টাকার রিলিফ পাঠানো হয়েছে।১৪ হাজার রিলিফ ক্যাম্প গঠন করা হয়েছে।১৫ লক্ষের বেশি মানুষকে রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নোনাজল ঢুকে যাওয়ায় কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। মৎস্যচাষেরও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ফুলচাষ ও গবাদি পশু কালচারে।

মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এটা পুরোটাই প্রাথমিক রিপোর্ট। ফিল্ড সার্ভের পর, পুরোটা বলা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ডিটেল অ্যাসেস করব। নদী বাঁধ, বাড়ি ভাঙা, রাস্তা, গর্ভমেন্ট বিল্ডিং, জেটি-ফুল ড্যামেজ রিপোর্ট পরে হবে।

এছাড়াও ক্ষতি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও উত্তর ২৪ পরগণা। এই জেলা গুলিতে ঝড়ের প্রভাব পড়েছে ভয়াবহ। এই ক্ষতিগ্রস্থ জায়গাগুলি আকাশপথে পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার তিনি সাগর, হিঙ্গলগঞ্জ দিঘা পরিদর্শন করবেন। এছাড়াও সেখানে প্রশাসনিক বৈঠকও করবেন তিনি।

এদিন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুক্রবার আকাশপথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।সঙ্গে থাকবেন খোদ মুখ্যসচিব।এছাড়াও থাকবে রাজ্য প্রশাসনের একটি দল।

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, শুক্রবার প্রথমে সাগর পরিদর্শন করবেন মুখ্যমন্ত্রী ও তার দল। আকাশপথে সমগ্র এলাকা পরিদর্শনের পর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার পরিস্থিতি দেখা হবে। আকাশপথে খতিয়ে দেখা হবে সুন্দরবন এলাকার পরিস্থিতি। এরপর সেখান থেকে সাগরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক সারবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাগরে বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী ও দল উড়ে যাবে দিঘার উদ্দেশ্যে। সেখানে দিঘার আসে পাশের জায়গা শ কাঁথি, রামনগর, নন্দীগ্রাম, দেশপ্রাণ সহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা পরিদর্শন করা হবে। এরপর পূর্ব মেদিনীপুরে হওয়া ইয়াসের জেরে ধ্বংসের সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দিঘাতেও প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উপকূলের জেলাগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেন, অনেক গ্রামে জল ঢুকে গেছে। রাত ৮.৪৫ পর্যন্ত জোয়ার চলবে। তারপর ক্রমশ নামবে জলস্তর। ১৩৪টি বাঁধ ভেঙে গেছে। ৫ ফুট অর্থাৎ মানুষ সমান উঁচু ঢেউ উঠেছে।

এছাড়াও তিনি বলেন যে, জোয়ারের জল ঢুকে যাতে ক্ষতি না হয় দেখতে হবে। রাতে আরও বেশি জল ঢুকবে। প্রয়োজনে ক্লাব, স্কুলে মানুষদের নিয়ে আসতে হবে। ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন যাতে সমস্যায় না থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।খুব সতর্ক থাকতে হবে আজ রাতে।

কলকাতার যেসব জায়গায় জল উঠেছে, সেখানকার মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশকেও প্রচার চালাতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।এখনই কেউ ত্রাণ শিবির ছেড়ে বাড়ি ফিরবেন না। মানুষকে যতটা সম্ভব সাহায্য করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here