গনতন্ত্র চলছে? পুলিশের মদতে পুনঃনির্বাচনে অবাধ সন্ত্রাস আর ব্যাপক ছাপ্পা দক্ষিণ দিনাজপুরের ৩৫ টি বুথে!




জনমত

পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের জয়জয়কার। কারন?

  • ভোট লুঠ (77%, 2,262 Votes)
  • উন্নয়নের পক্ষে ভোট (17%, 486 Votes)
  • দুর্বল বিরোধী (7%, 195 Votes)

Total Voters: 2,943

Loading ... Loading ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, বালুরঘাট ১৬ মে: পুনঃনির্বাচনের দিনেও উত্তপ্ত হয়ে রইল দক্ষিন দিনাজপুর। পুলিশের মদতে ব্যাপক বোমাবাজি সন্ত্রাস ও প্রার্থীকে মারধোর চালিয়ে অবাধে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার ৩৫ টি বুথে ভোট করল তৃনমুল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। বালুরঘাট, কুশমন্ডি, তপন, বংশীহারি সহ হরিরামপুর ব্লকের মোট ৩৫ টি বুথে গত সোমবার ব্যাপক ছাপ্পা ভোট চলায় কোথাও বিরোধীরা আবার কোথাও শাসক দল ভোট বাক্স ছিনতাই করে নেওয়ায় এসব বুথে পুনরায় আজ ভোট গ্রহন হয়।

এদিকে ওই সব বুথ গুলির ভোটাররা ভোটের নামে প্রহসন চলছে বলে সংবাদ মধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশের এই নিষ্কৃয়তার নিন্দা করেছেন তারা। এদিকে বালুরঘাট থানার খাসপুর বালিকা বিদ্যালয় বুথে ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছে তা দেখতে শাসক দলের ভয়ে ভোট গ্রহন কেন্দ্রে ঘরে ভোট দেওয়ার কাগজের ঘেরা টোপ তৈরি করা হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও প্রায় তিন ঘন্টা ধরে এভাবে ভোট চলার পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা হাজির হলে প্রিসাইডিং অফিসার পলাশ দেব স্বীকার করে নেন প্রচন্ড বৃষ্টির জন্য তাড়া হুড়োকরে ভোট শুরু করায় এই ভুল হয়ে গেছে। ভোটারদের আশঙ্কা এত লুঠের পর আগামীকাল ফল বেরলে এই দুষ্কৃতীরা যে কি অবস্থা করবে সাধারণ মানুষ ও বিরোধীদের তা ভাবতেই শরীরে ঠাণ্ডা স্রোত বইছে! সাহায্য চাইতে যাব কার কাছে! পুলিশ তো তৃণমূলের সাথে মিলিত ভাবে সন্ত্রাস করছে!

এদিকে জেলায় আজ সব থেকে বড় ঘটনা ঘটেছে হরিরামপুরে। সেখানে তৃনমুল থেকে বহিষ্কৃত সোনা পালের দাদাকে তৃনমুল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের প্রানে মারার প্রচেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী সোনা পালের দাদা দেবাশীষ পাল।
জানা গেছে হরিরামপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শুভাশিস (সোনা) পালের দাদা দেবাশিস পালের উপর আজ দুপুরে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবাশিস পাল। হামলার অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার হরিরামপুরের একাধিক বুথে ছিল পুনর্নির্বাচন। এদিন ভোট পর্ব শুরু হতেই গুরখেল এলাকায় বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা গাড়ি করে ঢোকে ওই এলাকায়। শুরু হয় বোমাবাজি। এরপর বুথ দখল করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলে থাকা কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস পালের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রচণ্ড মারধর করা হয় শুভাশিস পালের দাদা দেবাশিস পালকে। ঘটনাস্থলে পুলিশ বাহিনী পৌঁছাতেই পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় দেবাশিস পালকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।

দেবাশিসবাবুর গোটা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দেবাশিস পাল জানান, হামলাকারীরা বহিরাগত দুষ্কৃতী। কাউকে চেনেন না তিনি। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। অন্যদিকে ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
পাশাপাশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের মাঝিয়ান বুথে ছাপ্পা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ।অভিযোগ সেই উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ছাপ্পা দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সি পি আই এম -এর অবশ্য অভিযোগ, পুলিশই তৃণমূলের হয়ে ছাপ্পা দিয়ে দিয়েছে।

আজ সকাল থেকে উত্তপ্ত ছিল মাঝিয়ান বুথ চত্বর। সকালে সিপিআইএম কর্মী, সমর্থকদের মারধর করা হয়। বেশ কয়েকজনের চোট লাগে। বেলা বাড়তেই শুরু হয় বুথ দখলের পালা। বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই চলেছে ছাপ্পা। এদিকে, মাঝিয়ান এলাকায় ব্যারিকেড করে রেখেছে পুলিশ। ভোটারদের সেখান থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা তৃনমুল নেতৃত্ব।


Loading…

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*